Ticker

6/recent/ticker-posts

Class 10 || খল ও নিন্দুক | ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত || প্রশ্ন উত্তর | সাহিত্য সম্ভার | দ্বিতীয় ভাষা | WBBSE

জগত কোকিলের মধুর কুহু গানে মাতোয়ারা। অথচ কাকের গলার কর্কশ শব্দ বিষ মনে হয়। মানুষ আদর যত্ন দিয়ে শুক ও শারী পোষে কিন্তু কাক পোষে না। অর্থাৎ গুণের কদর সর্বত্র। আর নির্গুণের কোনও কদর নাই। 

Education Desk:

Haldibari 24 Ghonta



মহৎ যে হয় তার, সাধু ব্যবহার।
উপকার বিনা নাহি জানে অপকার॥
দেখহ কুঠার করে, চন্দন ছেদন।
চন্দন সুবাস তারে, করে বিতরণ॥

কাক কারো করে নাই, সম্পদ হরণ।
কোকিল করেনি কারে, ধন বিতরণ॥
কাকের কঠোর রব, বিষ লাগে কাণে।
কোকিল অখিলপ্রিয়, সুমধুর গানে॥
গুণময় হইলেই, মান সব ঠাঁই।
গুণহীনে সমাদর, কোন খানে নাই॥
শারী আর শুক পাখি, অনেকেই রাখে।
যত্ন কোরে কে কোথায়, কাক পুষে থাকে?

অধমে রতন পেলে, কি হইবে ফল?
উপদেশে কখন কি, সাধু হয় খল?
ভাল, মন্দ, দোষ, গুণ, আধারেতে ধরে।
ভুজঙ্গ অমৃত খেয়ে, গরল উগরে॥

লবণ-জলধি-জল করিয়া ভক্ষণ।
জলধর করিতেছে, সুধা বরিষণ॥
সুজনে সুযশ গায়, কুযশ ঢাকিয়া।
কুজনে কুরব করে সুরব নাশিয়া॥



ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত


ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত (১৮১২-১৮৫৯) : ২৪ পরগনার কাঞ্চনপল্লি (কাঁচড়াপাড়া) গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা হরিনারায়ণ গুপ্ত এবং মাতা শ্রীমতী দেবী। তিনি বাংলা ভাষার প্রথম দৈনিক পত্রের সম্পাদক। ১৮৩১ খ্রিস্টাব্দে ২৮ জানুয়ারি তাঁর সম্পাদনায় ‘সংবাদ প্রভাকর' প্রকাশিত হয়। তাঁর লেখা কয়েকটি গ্রন্থের নাম কবিবর রামপ্রসাদ সেনের কালীকীর্তন, প্রবোধ প্রভাকর, বোধেন্দু বিকাশ প্রভৃতি। সমকালের বিষয় বা ঘটনাকে অবলম্বন করে ক্ষুদ্র ব্যঙ্গ কবিতা লিখেছেন।



>> টীকা (note) : <<
> যশ : খ্যাতি, glory, [ বিশেষ্য ]
> সু : ভালো, good, 
> জলধি : সাগর, সমুদ্র, sea, 
> জলধর : মেঘ, cloud, সমুদ্র, ocean,
> রতন : রত্ন, দামী পাথর, zem, jewel,
> ছেদন : কাটা, cut,
> ঠাঁই : স্থান, যায়গা, place, space, 
> শারী (শারি) : [স. √শু+ই] বি. : স্ত্রী-শালিক । (বাংলায়) স্ত্রী-শুক।
> শুক : [স, √শুভ+ক] বি. : টিয়াপাখি। (বাংলায়) ময়নাপাখি।



“খল ও নিন্দুক” কবিতাটির অন্তর্নিহিত অর্থ : 


বাংলা সাহিত্যের বিশিষ্ট কবি **ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত** (১৮১২–১৮৫৯) উনিশ শতকের বাংলা সাহিত্যে ব্যঙ্গ ও নৈতিক শিক্ষামূলক কবিতার জন্য বিশেষভাবে পরিচিত। তিনি বাংলা ভাষার প্রথম দৈনিক পত্রিকা **সংবাদ প্রভাকর**-এর সম্পাদক ছিলেন। তাঁর কবিতায় সমাজজীবনের নানা দোষ-ত্রুটি ও মানুষের চরিত্রের বৈশিষ্ট্য সহজ উপমা ও ব্যঙ্গের মাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে। ‘খল ও নিন্দুক’ কবিতায় কবি মহৎ মানুষ ও খারাপ মানুষের চরিত্রের পার্থক্য বিভিন্ন উপমা ও উদাহরণের মাধ্যমে ব্যাখ্যা করেছেন।

কবিতার শুরুতেই কবি বলেছেন—
**“মহৎ যে হয় তার, সাধু ব্যবহার। / উপকার বিনা নাহি জানে অপকার॥”**
এই পঙক্তিতে কবি বোঝাতে চেয়েছেন যে মহৎ বা গুণী মানুষের স্বভাবই হলো ভালো ব্যবহার করা। তারা অন্যের উপকার করতে জানে, কিন্তু কারও ক্ষতি করতে জানে না। তাদের মন মানবকল্যাণের জন্য সদা প্রস্তুত থাকে। অর্থাৎ মহৎ মানুষের চরিত্রে দয়া, সহানুভূতি ও উদারতা প্রধান গুণ।

পরবর্তী পঙক্তিতে কবি একটি সুন্দর উপমা ব্যবহার করেছেন—
**“দেখহ কুঠার করে, চন্দন ছেদন। / চন্দন সুবাস তারে, করে বিতরণ॥”**
এখানে কুঠার বা কুড়াল দিয়ে চন্দনগাছ কাটা হয়। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়, সেই কুড়ালকেই চন্দন তার সুগন্ধ দেয়। অর্থাৎ যে তাকে আঘাত করে তাকেও সে সুগন্ধে ভরিয়ে দেয়। এর দ্বারা কবি বোঝাতে চেয়েছেন যে মহৎ মানুষও চন্দনগাছের মতো। কেউ তাদের আঘাত করলেও তারা প্রতিশোধ না নিয়ে বরং ভালো ব্যবহার ও উপকারের মাধ্যমেই প্রতিক্রিয়া জানায়।

এরপর কবি কাক ও কোকিলের উদাহরণ দিয়েছেন—
**“কাক কারো করে নাই, সম্পদ হরণ। / কোকিল করেনি কারে, ধন বিতরণ॥”**
এখানে বলা হয়েছে, কাক কারও সম্পদ চুরি করে না এবং কোকিলও কাউকে ধন-সম্পদ দেয় না। অর্থাৎ উভয়েই মানুষের প্রতি বিশেষ কোনো উপকার বা অপকার করে না।

কিন্তু পরবর্তী লাইনে কবি দেখিয়েছেন কেন মানুষ তাদের ভিন্নভাবে বিচার করে—
**“কাকের কঠোর রব, বিষ লাগে কাণে। / কোকিল অখিলপ্রিয়, সুমধুর গানে॥”**
কাকের ডাক কর্কশ ও বিরক্তিকর, যা মানুষের কানে বিষের মতো লাগে। অন্যদিকে কোকিলের গান খুবই মধুর ও শ্রুতিমধুর। তাই সবাই কোকিলকে ভালোবাসে। এর মাধ্যমে কবি বোঝাতে চেয়েছেন যে মানুষের মূল্যায়ন মূলতঃ তার গুণের উপর নির্ভর করে।

এই ভাবনাকে আরও স্পষ্ট করে কবি বলেছেন—
**“গুণময় হইলেই, মান সব ঠাঁই। / গুণহীনে সমাদর, কোন খানে নাই॥”**
অর্থাৎ যার মধ্যে গুণ আছে সে সর্বত্র সম্মান পায়। কিন্তু যার মধ্যে কোনো গুণ নেই তাকে কোথাও সম্মান দেওয়া হয় না। সমাজে মর্যাদা পাওয়ার জন্য গুণ বা চরিত্রের গুরুত্বই এখানে প্রধানভাবে তুলে ধরা হয়েছে।

এরপর কবি আরেকটি উদাহরণ দিয়েছেন—
**“শারী আর শুক পাথী, অনেকেই রাখে। / যত্ন কোরে কে কোথায়, কাক পুষে থাকে?”**
মানুষ শারী, শুক বা তোতা-ময়না পাখি ভালোবেসে ঘরে পোষে, কারণ তাদের কথা বলা বা মধুর স্বর মানুষের ভালো লাগে। কিন্তু কাককে কেউ পোষে না। এর মাধ্যমে কবি আবারও বোঝাতে চেয়েছেন যে গুণের জন্যই মানুষ সম্মান ও আদর পায়।

পরবর্তী অংশে কবি বলেছেন—
**“অধমে রতন পেলে, কি হইবে ফল? / উপদেশে কখন কি, সাধু হয় খল?”**
এখানে বলা হয়েছে, অধম বা নিকৃষ্ট মানুষের হাতে যদি মূল্যবান রত্নও পড়ে তবুও তার সঠিক মূল্যায়ন হয় না। তেমনি খারাপ মানুষকে যতই উপদেশ দেওয়া হোক, সে সহজে ভালো মানুষ হয়ে ওঠে না। অন্যদিকে মহৎ চরিত্রের মানুষদের হাজার চেষ্টাতেও বিপথে চালিত করা যায় না। 

এই ভাবনাকে আরও শক্তভাবে প্রকাশ করতে কবি বলেছেন—
**“ভাল, মন্দ, দোষ, গুণ, আধারেতে ধরে। / ভুজঙ্গ অমৃত খেয়ে, গরল উগরে॥”**
মানুষের ভালো বা মন্দ গুণ আসলে তার অন্তরের মধ্যে নিহিত থাকে। সাপকে যদি অমৃতও খাওয়ানো হয়, তবুও সে বিষই উগরে দেয়। এর দ্বারা বোঝানো হয়েছে যে খারাপ মানুষের স্বভাব সহজে বদলায় না।

এরপর কবি প্রকৃতির আরেকটি উদাহরণ দিয়েছেন—
**“লবণ-জলধি-জল করিয়া ভক্ষণ। / জলধর করিতেছে, সুধা বরিষণ॥”**
সমুদ্রের নোনাজল বাষ্প হয়ে মেঘে পরিণত হয়। সেই মেঘ আবার পৃথিবীতে বৃষ্টি হয়ে মিষ্টি জল বর্ষণ করে। এই উপমার মাধ্যমে কবি বোঝাতে চেয়েছেন যে মহৎ মানুষেরা নিকৃষ্ট মানুষের সংস্পর্শে থেকেও মহৎ কিছু সৃষ্টি করতে পারে। তারা খারাপকে ভালোতে রূপান্তরিত করার ক্ষমতা রাখে।

শেষে কবি বলেছেন—
**“সুজনে সুযশ গায়, কুযশ ঢাকিয়া। / কুজনে কুরব করে সুরব নাশিয়া॥”**
অর্থাৎ ভালো মানুষ অন্যের ভালো দিকের প্রশংসা করে এবং খারাপ দিকগুলো ঢেকে রাখে। কিন্তু খারাপ মানুষ তার বিপরীত কাজ করে—সে অন্যের ভালো গুণের কদর করে না বরং খারাপ দিকগুলো চর্চা করে। এখানেই নিন্দুকের প্রকৃত স্বভাব প্রকাশ পায়।

### উপসংহার

‘খল ও নিন্দুক’ কবিতায় কবি ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত বিভিন্ন উপমা—চন্দন ও কুঠার, কাক ও কোকিল, সাপ ও অমৃত, সমুদ্র ও মেঘ—এর মাধ্যমে মহৎ মানুষ ও খল মানুষের চরিত্রগত পার্থক্য অত্যন্ত সহজভাবে তুলে ধরেছেন। কবিতার মূল শিক্ষা হলো, মানুষের প্রকৃত মূল্য তার গুণ ও চরিত্রে। মহৎ মানুষ সবসময় উপকার করে এবং অন্যের গুণের কদর করে, আর খল ও নিন্দুক মানুষ অন্যের ভালো দিককে অনুসরণ না করে কুৎসা রটায়। এই নৈতিক শিক্ষাই কবিতার অন্তর্নিহিত বক্তব্য।

---





>> "খল ও নিন্দুক" কবিতার প্রশ্ন উত্তর: <<

##  ১) “খল ও নিন্দুক” কবিতা অনুসারে ভুজঙ্গ কী আচরণ করে থাকে? (প্রায় ৬০ শব্দ)

‘খল ও নিন্দুক’ কবিতায় **ভুজঙ্গ** অর্থাৎ সাপের আচরণের মাধ্যমে খারাপ মানুষের স্বভাব বোঝানো হয়েছে। কবি বলেছেন— *“ভুজঙ্গ অমৃত খেয়ে, গরল উগরে।”* অর্থাৎ সাপকে অমৃত খেতে দিলেও সে বিষই উগরে দেয়। এর দ্বারা বোঝানো হয়েছে যে খল মানুষকে যতই উপদেশ বা ভালো ব্যবহার করা হোক, তার স্বভাব সহজে পরিবর্তিত হয় না।

---

##  ২) “ভুজঙ্গ অমৃত খেয়ে, গরল উগরে।” — ‘ভুজঙ্গ’ কী? (প্রায় ৬০ শব্দ)

‘ভুজঙ্গ’ শব্দের অর্থ হলো **সাপ বা সর্প**। ‘খল ও নিন্দুক’ কবিতায় কবি এই শব্দটি রূপক অর্থে ব্যবহার করেছেন। সাপকে অমৃত খাওয়ালেও সে বিষই উগরে দেয়—এই উদাহরণের মাধ্যমে কবি বোঝাতে চেয়েছেন যে খারাপ মানুষের স্বভাব সহজে বদলায় না। যতই উপদেশ বা উপকার করা হোক, তারা প্রায়ই খারাপ আচরণই করে থাকে।


##  ৩)  "যত্ন কোরে কে কোথায়, কাক পুষে থাকে?"-- কাক কেউ পোষে না কেন? [1]
উত্তর: এই পৃথিবীর সর্বত্রই গুণের কদর করা হয়। শুক-শারি, তোতা-ময়না, কোকিলের সুমিষ্ট স্বরের জন্য তাদের সকলেই পুষতে চায়। কাক আমাদের সম্পদ লুঠ করেনি ঠিকই। কিন্তু তার গুণ নেই। কাকের কর্কশ কণ্ঠের জন্য কেউ তাকে পোষে না।

##  ৪)  "গুণময় হইলেই, মান সব ঠাঁই। / গুণহীনে সমাদর, কোন খানে নাই॥" -- কবি কোন্ কোন্ উপমার সাহায্যে উপরে লিখিত প্রসঙ্গটি (context) ব্যাখ্যা করেছেন? [3]
উত্তর: গুণ (quality) থাকলে সবাই সম্মান করে; খাতির করে। যার গুণ নেই তাকে কেউ সমাদর (respect) করে না; খাতির করে না। 

কবি বলেছেন কাক কারও সম্পদ কেড়ে নেয়নি। কোকিল কাউকে ধন সম্পদ দান করেনি। কিন্তু জগতের মানুষ কোকিলের মধুর কুহু গানে মাতোয়ারা। অন্যদিকে কাকের গলার কর্কশ শব্দ বিষ মনে হয়। মানুষ আদর যত্ন দিয়ে শুক ও শারী পাখি পোষে, কিন্তু কাক পোষে না। অর্থাৎ গুণের কদর (appreciation) সর্বত্র। আর নির্গুণের কোনও কদর নাই। 

##  ৫)  "লবণ-জলধি-জল করিয়া ভক্ষণ। / জলধর করিতেছে, সুধা বরিষণ॥"-- এই উপমার অর্থ কী? কবি এই উপমা দিয়ে কী বোঝাতে চেয়েছেন? [2]
উত্তর: সমুদ্রের নোনাজল বাষ্প হয়ে উপরে উঠে গিয়ে মেঘ হয়। সেই মেঘ একসময় পৃথিবীর উপর বৃষ্টি হয়ে নেমে আসে। সেই বৃষ্টি মিষ্টি জলের। লবণাক্ত হয় না। 
        কবি বোঝাতে চেয়েছেন গুণী ব্যক্তিরাও ঠিক এমন। তারা কারো নিন্দা করে না। তারা কোনো মানুষের অসুন্দর দিকগুলো প্রকাশ করে না, বরং তাদের গুণগুলো প্রকাশ করে।  

##  ৬)  "দেখহ কুঠার করে, চন্দন ছেদন।/ চন্দন সুবাস তারে করে বিতরণ।"-- 'কুঠার' ও 'সুবাস' শব্দের অর্থ কী? উপরিক্ত কবিতার অংশটির অন্তর্নিহিত অর্থ লেখ। [1+2]
উত্তর: 'কুঠার' শব্দটির অর্থ কুড়াল। 'সুবাস' কথাটির কথাটির অর্থ বা মানে সুগন্ধ।

          চন্দন গাছ তার সুগন্ধির জন্য বিখ্যাত। কুড়ুল দিয়ে আঘাত করলেই চন্দন গাছ থেকে সুগন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। কবি বলতে চেয়েছেন যে মহৎ ব্যক্তিরা এমনই হন। তাদের স্বভাবই হল উপকার করা। উপকার ছাড়া তারা অপকার করে না। আঘাত করলেও তারা চন্দন গাছের মতই তাদের গুণের সুগন্ধ ছড়িয়ে দেয়। 


##  ৭)  "গুণময় হইলেই, মান সব ঠাঁই। গুণহীনে সমাদর, কোনোখানে নাই।"-- কোন কবির লেখা কোন কবিতার অংশ? 'ঠাঁই' শব্দের অর্থ কী? [1+1]
উত্তর: কবিতার এই পঙক্তিটি কবি ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের লেখা 'খল ও নিন্দুক' কবিতার অংশ। 
          'ঠাঁই' শব্দটির অর্থ স্থান। অর্থাৎ গুণী মানুষের সম্মান সব যায়গায়। 

##  ৮) "মহৎ যে হয় তার, সাধু ব্যবহার। / উপকার বিনা নাহি জানে অপকার॥"-- মহৎ ব্যক্তিরা কেমন হয়?[1]
উত্তর: মহৎ বা গুণী ব্যক্তিরা সর্বদাই সুন্দর ব্যবহার করেন। তারা সবসময় উপকার করার চেষ্টা করেন। ক্ষতি করার কথা তারা ভাবতে পারেন না। 

##  ৯)  "ভুজঙ্গ অমৃত খেয়ে গরল উগরে।"-- "ভুজঙ্গ" কী? কাব্যের এই অংশটুকুর অর্থ কী? [1]
অথবা,
"খল ও নিন্দুক" কবিতা অনুসারে ভুজঙ্গ কী আচরণ করে থাকে? [WBBSE-MP-2024]
উত্তর: "ভুজঙ্গ" শব্দের অর্থ হল সাপ বা সর্প। 

কবি এই উক্তির মধ্য দিয়ে বলতে চেয়েছেন যে সাপকে অমৃত খেতে দিলেও তার বিষ কমে যায় না। তেমনই খল বা খারাপ মানুষেদের হাজার উপদেশ দিলেও তারা সাধু হবে না। ভাল, মন্দ, দোষ, গুণ আসলে অন্তরের ভেতরের বিষয়। গুণী ব্যক্তিরা তাদের অন্তর থেকেই উপকারী হয়। প্ররোচনা (provoke) দিলেও তারা খারাপ হয় না।

##  ১০) প্রশ্ন: "লবণ-জলধি-জল করিয়া ভক্ষণ।/ জলধর করিতেছে, সুধা বরিষণ।।"--- এই উপমার মধ্য দিয়ে কবি যেভাবে মহৎ মানুষ ও খল মানুষের চরিত্র বর্ণনা করেছেন তা কবিতা অবলম্বন করে লেখ। (3) (90 words) 

> উত্তর: সমুদ্রের নোনা জল বাষ্প হয়ে উঠে গিয়ে মেঘ হয়। সেই মেঘ একসময় পৃথিবীর উপর অমৃতের ধারার মতো বর্ষিত হয়। সেই বৃষ্টির জল মিষ্টি হয়, লবণাক্ত হয় না। 'খল ও নিন্দুক' কবিতায় কবি এই উপমার মধ্য দিয়ে কবি বলতে চেয়েছেন যে মহৎ ব্যক্তিরাও ঠিক এমন। মহৎ মানুষেরা সুন্দর মনের অধিকারী হয়। তারা উপকার ছাড়া ক্ষতি করতে জানে না। ভালো-মন্দ-দোষ-গুণ সবই আসলে অন্তরের বিষয়। গুণী ব্যক্তিরা তাদের অন্তর থেকেই উপকারী হয়। হাজার প্ররোচনাতেও তারা কারো ক্ষতি করে না। অপরদিকে সাপকে যেমন অমৃত খেতে দিলেও তার বিষ কমে না, তেমনই খল বা খারাপ মানুষদের হাজার উপদেশ দিলেও তারা সাধু হয়ে যায় না। নিন্দুকেরা সর্বদা মানুষের ভালো গুণাবলীগুলোব চেপে দিয়ে খারাপ দিকগুলোকেই তুলে ধরে। গুণী মানুষের ঠিক এর উলটো। তারা মানুষের অসুন্দর দিকগুলো প্রকাশ করে না বরং গুণগুলোকে প্রকাশ করে। মহৎ ব্যক্তিদের আঘাত করলেও তারা চন্দন গাছের মতই তাদের গুণের সুগন্ধ ছড়িয়ে দেয় সর্বত্র।